দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বলিউড অভিনেত্রী শেফালি শাহের ব্যক্তিজীবনের অনেকটাই এত দিন ছিল আড়ালে। এবার নিজের স্মৃতিকথাধর্মী বইয়ে সেই জীবনের কিছু কঠিন অধ্যায় তুলে ধরেছেন তিনি। বিশেষ করে প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন বেশ খোলামেলাভাবে। তবে সেখানে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি, এমনকি কারও নামও উল্লেখ করেননি এই অভিনেত্রী।
শেফালির বইয়ের নাম ‘দ্য অডাসিটি অব বিইং’। ব্লুমসবারি ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত বইটিতে নিজের প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, বিয়ের সময় কেউই বিচ্ছেদের কথা মাথায় রাখেন না। মানুষ সাধারণত দীর্ঘদিন একসঙ্গে সুখে থাকার প্রত্যাশা নিয়েই নতুন জীবনে পা রাখে।
সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন শেফালি। তিনি বলেন, প্রথম সংসারের ঘটনা নিয়ে বইয়ে কাউকে আলাদা করে দায়ী করার চেষ্টা করেননি। কী ঘটেছিল বা কী ঘটেনি, সেসব বিস্তারিতও জানাননি। বরং একটি সম্পর্ক কীভাবে ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে পারে, সেই অভিজ্ঞতাকেই সাধারণভাবে তুলে ধরেছেন।
শেফালির ভাষায়, মানুষ যখন বিয়ে করে তখন বিচ্ছেদের জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে না। অনেকেই সুখে-শান্তিতে সারাজীবন একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন নিয়েই বিয়ে করেন। কিন্তু বাস্তব জীবন সবসময় সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী চলে না। তখন পরিস্থিতি মেনে নিয়ে তার মুখোমুখি হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।
নিজের জীবনের এই অধ্যায় বইয়ে তুলে ধরার বিষয়ে শেফালি বলেন, লুকানোর মতো কিছু ছিল না। তবে পুরো বিষয়টি তিনি অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে লিখেছেন। তার কাছে এটি কোনো ব্যক্তিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর গল্প নয়; বরং একটি সম্পর্কের ব্যর্থতার গল্প।
শেফালি জানান, একটি পর্যায়ে গিয়ে মানুষ বুঝতে পারেন তার বিয়েটি আর আগের মতো নেই, সম্পর্কটি ভেঙে পড়ছে। সেই উপলব্ধি থেকে শুরু করে সম্পর্কের শেষ পরিণতি- এই পুরো মানসিক যাত্রাটিই তিনি লেখায় ধরার চেষ্টা করেছেন।
শেফালি শাহের প্রথম স্বামী ছিলেন অভিনেতা হর্ষ ছায়া। তাদের সম্পর্কের সমাপ্তির পর ২০০০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহকে বিয়ে করেন তিনি। বিপুলের সঙ্গে তার দুই ছেলে- আর্যমান ও মৌর্য।
তবে ‘দ্য অডাসিটি অব বিইং’ শুধু বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদের গল্প নয়। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পুনর্বিবাহ, বন্ধুত্ব, সামাজিক সম্পর্ক, বয়স বাড়ার অভিজ্ঞতা, নিজের সৃজনশীলতা নিয়ে সংশয়, শরীর নিয়ে ভাবনা এবং সন্তান মানুষ করার নানা কঠিন অভিজ্ঞতাও বইটিতে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
বইটি প্রকাশের আগে শেফালি জানিয়েছিলেন, তার জীবন এমন কোনো অসাধারণ ঘটনা দিয়ে ভরা নয় যে সেটি নিয়ে স্মৃতিকথা লিখতেই হবে। তারপরও এমন একটি গল্প বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার অধিকার একমাত্র তার নিজের। বইটি অসাধারণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিলেও সেখানে নিজের জীবনের প্রতি সম্পূর্ণ সততা থাকবে- এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় বিনোদন জগতে কাজ করছেন শেফালি শাহ। ‘সত্যা’, ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘দিল ধড়কনে দো’, ‘জলসা’ ও ‘ডার্লিংস’-এর মতো সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ‘দিল্লি ক্রাইম’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। এই ধারাবাহিকের জন্য আন্তর্জাতিক এমি পুরস্কারও পেয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা।
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা জনসমক্ষে তুলে ধরলে মানুষ তা নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে পারেন- এ বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন শেফালি। তার মতে, ক্যামেরার সামনে নিজেকে তুলে ধরা হোক, নিজের লেখা প্রকাশ করা হোক কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট করা- মানুষ সেখানে নিজের মতো করে মতামত দেবেনই।
তাই নিজের জীবনের গল্প বলার ক্ষেত্রে শেফালির লক্ষ্য কাউকে সন্তুষ্ট করা নয়। বরং নিজের অভিজ্ঞতাগুলোকে নিজের মতো করে তুলে ধরাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কে